খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই জানুয়ারি ২০১৫, ১১:১৫ এএম

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের একটি শান্ত অথচ ঐতিহ্যবাহী জেলা জামালপুর। যমুনা, ব্রহ্মপুত্র আর ঝিনাই নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা এই জেলাটি কেবল তার উন্নতমানের নকশিকাঁথা বা সংস্কৃতির জন্যই বিখ্যাত নয়, বরং এখানে ছড়িয়ে রয়েছে বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন, প্রাচীন মাজার, আধুনিক শিল্পকারখানা এবং প্রকৃতির সবুজ ক্যানভাস। সুফি-সাধকদের পুণ্যভূমি থেকে শুরু করে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত স্থান—সবই মিলবে এই জামালপুরে। যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছুটা সময় বের করে ইতিহাসের খোঁজে বা প্রকৃতির সান্নিধ্যে যেতে চাইলে জামালপুরের এই জায়গাগুলো আপনার ভ্রমণ তালিকায় রাখতেই হবে।

জামালপুর জেলার প্রতিটি দর্শনীয় স্থানের বিস্তারিত বিবরণ, যাতায়াত এবং আনুষঙ্গিক সমস্ত তথ্য কোনো প্রকার বুলেট পয়েন্ট বা কৃত্রিম ছক ছাড়াই, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও মানুষের লেখার শৈলীতে সাজিয়ে দেওয়া হলো। লেখার দৈর্ঘ্য ও তথ্যের গভীরতা বজায় রাখতে এটি ধাপে ধাপে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার প্রত্যন্ত কাপাসহাটিয়া গ্রামে গড়ে উঠেছে ইতিহাসখ্যাত গান্ধী আশ্রম। ডাকঘর-হাজীপুর এর অন্তর্গত এই স্থানটি পরিদর্শনের জন্য জামালপুর জেলা সদর কিংবা মেলান্দহ পৌরশহর—উভয় স্থান থেকেই সড়কপথে রওনা দেওয়া যায়। উভয় দিক থেকেই এর দূরত্ব মাত্র ১৫ কিলোমিটারের মতো, যা সিএনজি, অটোরিকশা বা স্থানীয় ইজিবাইকের মাধ্যমে খুব সহজে পাড়ি দেওয়া সম্ভব। ১৯৩৪ সালে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস ও স্বাধিকার আন্দোলনে অনুপ্রাণিত হয়ে তৎকালীন সমাজসেবীরা এই আশ্রমটি প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় এটি ছিল এই অঞ্চলের কুটির শিল্পের বিকাশ, খাদি কাপড়ের বিস্তার এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গোপন বৈঠক ও আশ্রয়স্থল। দেশভাগের পর এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও এই আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ অনন্য সাধারণ ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে একটি সরকারি ট্রাস্টের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছে। আশ্রমের মূল ভবনে একটি সমৃদ্ধ জাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে মহাত্মা গান্ধীর ব্যবহৃত জিনিসপত্র, প্রাচীন চরকা এবং দুর্লভ কিছু আলোকচিত্র সংরক্ষিত রয়েছে যা ইতিহাসপ্রেমীদের দারুণভাবে টানে।
জামালপুর শহরের জিরো পয়েন্ট তথা একেবারে প্রাণকেন্দ্রে দয়াময়ী মোড়ে এই ঐতিহাসিক মন্দিরটি অবস্থিত। জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন বা প্রধান বাস টার্মিনাল থেকে নামার পর যেকোনো রিকশা বা ইজিবাইকে চড়ে মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে শহরের এই ঐতিহ্যবাহী স্থানে পৌঁছানো যায়। এটি এই অঞ্চলের প্রাচীন ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিখুঁত স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন। ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রায় তিনশত বছর আগে তৎকালীন ময়মনসিংহের জমিদার কৃষ্ণচন্দ্র রায় তাঁর মা দয়াময়ীর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এই সুদৃশ্য মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। মূল মন্দিরের গায়ে প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যবাহী টেরাকোটা বা পোড়ামাটির চমৎকার কারুকার্য রয়েছে, যা প্রাচীন শিল্পকলার পরিচয় বহন করে। শত বছরের পুরোনো এই মন্দির প্রাঙ্গণে প্রতি বছর দুর্গাপূজা, কালীপূজা ও বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশাল মিলনমেলা বসে এবং দূর-দূরান্ত থেকে বহু দর্শনার্থী এই প্রাচীন স্থাপত্য দেখতে ভিড় করেন।
ইসলামি ঐতিহ্য ও দৃষ্টিনন্দন আধুনিক ও প্রাচীন স্থাপত্যের এক চমৎকার মেলবন্ধন দেখতে চাইলে আপনাকে যেতে হবে মেলান্দহ উপজেলার মালঞ্চ এলাকায়। জামালপুর জেলা সদর থেকে সরাসরি লোকাল বাস কিংবা সিএনজিতে চড়ে মাত্র ১০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে মালঞ্চ বাজারে নামতে হয়। বাজারের একদম সন্নিকটেই এই বিশাল মসজিদ কমপ্লেক্সটি অবস্থিত। এই অঞ্চলের প্রাচীন ইসলামি সংস্কৃতির এক অনন্য কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এটি সুপরিচিত। এর সুউচ্চ মিনার এবং গম্বুজের কারুকার্য দূর থেকেই পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। গ্রামীণ শান্ত পরিবেশের মধ্যে অবস্থিত এই ধর্মীয় স্থাপনাটি দর্শনার্থীদের মনে এক পরম মানসিক শান্তি এনে দেয়।
জামালপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় এই গৌরবময় স্মৃতিসৌধটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। শহরের প্রধান প্রবেশমুখ বা যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ মোড় থেকে রিকশা কিংবা ইজিবাইকে চড়ে খুব সহজেই এখানে আসা সম্ভব। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জামালপুর জেলা ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত ঘাঁটি। বিশেষ করে জামালপুর পিটিআই ও বাঘাবাড়ী এলাকার প্রতিরোধ যুদ্ধ এদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। একাত্তরের সেইসব অকুতোভয় বীর শহীদদের স্মৃতি এবং তাঁদের বীরত্বগাথাকে নতুন প্রজন্মের কাছে সগৌরবে টিকিয়ে রাখতে এই দৃষ্টিনন্দন আধুনিক স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করা হয়েছে, যা একই সাথে গভীর শোক ও বীরত্বের প্রতীক।
জামালপুর শহরের নামকরণ এবং এই অঞ্চলে ইসলামের আলো ছড়ানোর সুদীর্ঘ ইতিহাস যাঁর হাত ধরে শুরু হয়েছিল, তিনি হলেন ইয়েমেন থেকে আসা মহান সুফি সাধক হযরত শাহ জামাল (র.)। তাঁর এই পবিত্র মাজার শরীফটি জামালপুর শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের একদম পাশেই অবস্থিত। জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন বা শহরের যেকোনো প্রান্ত হতে রিকশা বা ইজিবাইকে করে খুব সহজেই এই দরগাহ শরিফে আসা যায়। ঐতিহাসিক সূত্রমতে, মুঘল সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে এই মহান সাধক ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে প্রাচীন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে এসে আস্তানা গাড়েন। তাঁর আধ্যাত্মিক ক্ষমতা এবং সুমহান চরিত্রের কারণে দলে দলে মানুষ ইসলামের পতাকাতলে সমবেত হয়। বিশাল ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত এই মাজার প্রাঙ্গণটি অত্যন্ত শান্ত, ছায়ানিবিড় ও পবিত্র এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ ধারণ করে আছে, যেখানে প্রতিদিন হাজারো ভক্ত, দর্শনার্থী ও মানতকারীরা মনের শান্তির খোঁজে আসেন।
হযরত শাহ জামাল (র.)-এর আপন ভাগ্নে ও অন্যতম প্রধান সহচর ছিলেন আরেক প্রখ্যাত সুফি সাধক হযরত শাহ কামাল (র.)। তাঁর মাজারটি মেলান্দহ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দুরমুট বাজারে অবস্থিত। জামালপুর জেলা সদর কিংবা মেলান্দহ উপজেলা থেকে সরাসরি লোকাল বাস বা সিএনজিতে চড়ে দুরমুট বাজারে আসা যায় এবং মাজারটি বাজারের একদম ভেতরেই অবস্থিত। এছাড়া ঢাকা বা ময়মনসিংহ থেকে রেলপথে আসতে চাইলে সরাসরি ‘দুরমুট রেলওয়ে স্টেশনে’ নেমে সামান্য পথ হেঁটে বা রিকশায় চড়ে এই মাজারে যাওয়া সম্ভব। মামার সাথে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এসে তিনি এই অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন এবং আধ্যাত্মিক আলো ছড়ান। এই মাজারের প্রাচীন পরিকাঠামো, সংলগ্ন বিশাল দীঘি এবং প্রাচীন গাছপালা এই স্থানটিকে একটি প্রাচীন লোকালয় ও আধ্যাত্মিক দর্শনীয় স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। প্রতি বছর এখানে দূর-দূরান্তের মানুষের সমাগম ঘটে।

পাহাড় আর সবুজের অনাবিল মিতালি নিজের চোখে দেখতে চাইলে আপনাকে যেতে হবে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া-কামালপুরে। ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে কিংবা জামালপুর ও শেরপুর জেলা শহর থেকে সিএনজি বা লোকাল বাসে চড়ে প্রথমে বকশীগঞ্জ বাজারে পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ধানুয়া-কামালপুরে গেলেই দেখা মেলে এই নয়নাভিরাম বন বিনোদন কেন্দ্রের, যা স্থানীয় মানুষের কাছে ‘নিলয় পিকনিক স্পট’ নামেও পরিচিত। এটি মূলত সরকারি উদ্যোগে গারো পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে তোলা একটি চমৎকার ইকো-ট্যুরিজম পার্ক। এখানকার আঁকাবাঁকা পাহাড়ি ঢাল, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বৈচিত্র্যময় জীবনযাত্রা এবং কৃত্রিম হ্রদ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত সুউচ্চ ওয়াচ-টাওয়ার থেকে দূরের মেঘালয়ের পাহাড় এবং আকাশে মেঘের ওড়াউড়ি দেখার অনুভূতি এক কথায় অসাধারণ। বিশেষ করে শীতকালে এখানে চড়ুইভাতি বা পিকনিক করতে সারা দেশ থেকে প্রকৃতিপ্রেমীদের ঢল নামে।
প্রকৃতিপ্রেমী এবং নদীর শান্ত-স্নিগ্ধ রূপ যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নে অবস্থিত জঙ্গলদি বহিরচর একটি দারুণ অফবিট জায়গা। মেলান্দহ বাজার থেকে রওনা হয়ে গ্রামীণ জনপদ জালালপুর গ্রাম ছাড়িয়ে, সাধুপুর ভাঙা ব্রিজ পেরিয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলে ঝিনাই নদীর এই মোহনায় পৌঁছানো যায়। মূলত পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যেখানে ঝিনাই নদী উৎপন্ন হয়েছে, সেই ঐতিহাসিক উৎসমুখটিই জঙ্গলদি বহিরচর নামে পরিচিত। বর্ষাকালে নদী যখন কানায় কানায় পূর্ণ থাকে, তখন চারপাশের সবুজ ও পানির মিতালিতে এর রূপ বহুগুণ বেড়ে যায়। আবার শুষ্ক মৌসুমে বা শরৎকালে নদীর বুকে বিশাল বালুচর জেগে ওঠে এবং চারপাশ ধবধবে সাদা কাশবনে ছেয়ে যায়, যা ছবি তোলার জন্য এবং বিকেল কাটানোর জন্য এক আদর্শ স্থান।
জামালপুর জেলার উত্তর প্রান্তে অবস্থিত দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্রেই এই ঐতিহাসিক ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠানটি সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। জামালপুর জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪৭ কিলোমিটার। জেলা শহর থেকে সিএনজি, লোকাল বাস কিংবা লোকাল ট্রেনে চড়ে সরাসরি দেওয়ানগঞ্জ গিয়ে এই সুগার মিল চত্বরে পৌঁছানো যায়। ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই চিনি কলটি উত্তরবঙ্গের চিনির চাহিদা মেটাতে এবং স্থানীয় হাজার হাজার চাষির উৎপাদিত আখের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দীর্ঘকাল ধরে এক বিশাল ভূমিকা রেখে আসছিল। মিলের বিশাল চত্বর, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের পুরোনো আবাসিক কোয়ার্টার এবং কারখানার বিশাল পরিকাঠামো পরিদর্শনের মাধ্যমে দেশের ঐতিহ্যবাহী ভারী শিল্পায়নের সোনালী ইতিহাস খুব কাছ থেকে অনুধাবন করা যায়।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড বা যমুনা সার কারখানা এই অঞ্চলের আধুনিক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। সরিষাবাড়ী উপজেলা সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। জামালপুর সদর কিংবা সরিষাবাড়ী থেকে সিএনজি বা ইজিবাইক যোগে খুব সহজেই এই শিল্প এলাকায় যাওয়া যায়। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কারখানাটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ও দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। কারখানার বিশাল শিল্প এলাকা, উন্নত প্রযুক্তি এবং এর চারপাশের সাজানো-গোছানো পরিকল্পিত পরিবেশ দর্শনার্থীদের চোখ জুড়ায়। তবে এটি একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষিত এলাকা (KPI) হওয়ায় সাধারণ দর্শনার্থীদের কারখানার মূল উৎপাদন ইউনিটের ভেতরে প্রবেশের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয়।
রাজধানী ঢাকা থেকে জামালপুর জেলা সদরে যাতায়াতের সবচেয়ে আরামদায়ক, নিরাপদ এবং সহজ মাধ্যম হলো রেলপথ। ঢাকার কমলাপুর বা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিদিন তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা বা অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসে চড়ে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার মধ্যে জামালপুর শহরে পৌঁছানো যায়। আপনি যদি সড়কপথে ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন, তবে ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত উন্নতমানের বাস যাতায়াত করে। রাত ১১টার দিকে বাসে চড়লে জ্যামমুক্ত রাস্তায় ভোর ৫টার মধ্যেই জামালপুর শহরে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। জামালপুর শহরের অভ্যন্তরীণ দর্শনীয় স্থানগুলোতে ঘোরার জন্য স্থানীয় ইজিবাইক এবং ঐতিহ্যবাহী রিকশাই সবচেয়ে সেরা ও সাশ্রয়ী মাধ্যম। আর দূরবর্তী উপজেলাগুলোর দর্শনীয় স্থানগুলোতে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়ানোর জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা রিজার্ভ করে নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
মন্তব্য